AF EDU 24-এফ এডু ২৪(afedu24.blogspot.com)
--:--:--

সর্বশেষ

নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত নড়াইল জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য ভাণ্ডার। চিত্রা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জেলা শুধু শিল্পী এস.এম. সুলতানের জন্মভূমিই নয়, বরং এটি ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য ও প্রকৃতির মিলনস্থল। চলুন জেনে নেওয়া যাক নড়াইল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে।

নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ


১. এস.এম. সুলতান কমপ্লেক্স

বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস.এম. সুলতানের স্মৃতিবিজড়িত এই কমপ্লেক্সটি নড়াইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এখানে রয়েছে সুলতান গ্যালারি, তাঁর আঁকা চিত্রকর্ম, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং বার্ষিক সুলতান মেলা। শিল্পপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এটি এক অনন্য গন্তব্য।


২. নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ

১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নড়াইল জেলার অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা। এর স্থাপত্যশৈলী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদেরও মুগ্ধ করে।


৩. লোহাগড়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস বহন করে এই স্মৃতিসৌধ। ১৯৭১ সালের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্থানটি তরুণ প্রজন্মের দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। স্মৃতিসৌধের পাশে একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষিত আছে।


 ৪. কালিয়া জমিদার বাড়ি

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি অতীতের ঐশ্বর্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশাল দোতলা অট্টালিকা, খিলান দরজা, দিঘি ও পাথরের ঘাট এখনও সেই সময়ের রাজকীয় আবহ ধরে রেখেছে।


৫. চিত্রা নদী

চিত্রা নদী নড়াইল জেলার প্রাণস্রোত। নদীর পাড়ে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, নৌভ্রমণ ও মাছ ধরা এখানে পর্যটকদের প্রিয় অভিজ্ঞতা। বর্ষা মৌসুমে চিত্রা নদীর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।


৬. নড়াইল টাউন পার্ক

শহরের মাঝেই অবস্থিত এই পার্কটি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান। এখানে রয়েছে কৃত্রিম জলাশয়, শিশুদের রাইড, বসার বেঞ্চ ও সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ।


৭. রূপগঞ্জ পার্ক ও হ্রদ

নড়াইল শহরের কাছেই অবস্থিত রূপগঞ্জ পার্কটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গসম। এখানে রয়েছে হ্রদ, নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা, গাছগাছালিতে ঘেরা হাঁটার রাস্তা এবং বিশ্রামের জন্য ছায়াময় ঘাট।


৮. হরিশংকর মঠ

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র স্থান এটি। শতবর্ষ পুরোনো এই মঠের স্থাপত্যশৈলী ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সারা বছরই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।


৯. কালনা বা মধুমতি সেতু

চিত্রা নদীর তীরে অবস্থিত এই সেতু নড়াইলের একটি ঐতিহাসিক স্থান। মধুমতি সেতু বাংলাদেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। এখান থেকে নদীর মনোরম দৃশ্য দেখা যায়, পাশাপাশি কাছেই রয়েছে স্থানীয় বাজার যেখানে নড়াইলের বিখ্যাত দই, মাছ ও পাটজাত পণ্য পাওয়া যায়।


১০. নড়াইল কালচারাল একাডেমি

নড়াইলের সাংস্কৃতিক বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অপরিসীম। এখানে নিয়মিত নাটক, সংগীতানুষ্ঠান, চিত্র প্রদর্শনী এবং স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

১১. নিরিবিলি পিকনিক স্পট

নড়াইল জেলার লোহাগাড়া থানার রামপুর গ্রামে অবস্থিত। নড়াইল শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত দক্ষিণ বঙ্গের একটি অন্যতম পিকনিক স্পট। এখানে প্রতিদিন অনেক দর্শণার্থী আসে। এখানে, নীল তিমির কঙ্কাল সহ মিনি চিড়িয়াখানা রয়েছে। এছাড়া জাদুঘর, ভাস্কর্য, পার্ক, বোট ইত্যাদি রয়েছে।

১২. স্বপ্নবীথী পিকনিক স্পট

নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার রামপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি ১২ একর জমির উপর অবস্থিত। দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম একটি পিকনিক স্পট হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। এটি নড়াইল জেলা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, ভাস্কর্য, পার্ক, দোলনা, বোট ইত্যাদি।

১৩. ডক্টর নিহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি 

উপন্যাসিক ডক্টর নিহাররঞ্জন গুপ্তের পৈত্রিক বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ইতনা গ্রামে অবস্থিত। লোহাগড়া সিএন্ডবি চৌরাস্তা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাড়িটি ইতনা বালিকা বিদ্যালয় এর কাছে অবস্থিত। নড়াইল জেলা শহর থেকে এটি ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ডক্টর নিহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি এখন জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ডক্টর নিহাররঞ্জন গুপ্ত কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তার পৈত্রিক নিবাস লোহাগাড়া থানার ইতনাতে অবস্থিত।

১৪. ব্যানার্জি বাড়ি

ব্যানার্জি বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ইতনা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত। বাড়িটির মালিক শিল্পপতি বাসুদেব ব্যানার্জি। বাসুদেব ব্যানার্জির রয়েছে অনেক জাহাজ ও সম্পদ। ইতনা গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন শিল্পপতি বাসুদেব ব্যানার্জি। বাড়িটির গেটের লেখা রয়েছে মেজো বাবু বাড়িতে নাই। বাড়িটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো - এটি জাহাজ আকৃতির। অনেক জায়গা নিয়ে বাড়িটি অবস্থিত। বাড়ির ভিতরে রয়েছে মন্দির,  বিদেশী কুকুরদের ঘর, ভেড়াদের ঘুড়ার জায়গা, বড় পুকুর, দেশ-বিদেশি গাছসহ ভাস্কর্য ও মূর্তি।

নড়াইল জেলা কেবল একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ইতিহাস, শিল্প ও প্রকৃতিপ্রেমী যে কেউ এখানে এলে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।

Post a Comment

Previous Post Next Post