নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলাধীন ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শনিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ক এক সভায় পরীক্ষায় ফেলের হার কমাতে ও পাশের হার বাড়াতে করণীয় কি? প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি সরদার তানজির হোসেন তনুর এই প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন শিক্ষক বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও পরামর্শ দিয়েছেন।
শিক্ষকদের প্রস্তাবনা ও পরামর্শগুলি নিচে আলোচনা করা হলো।
১. হাজিরা নিশ্চিত করা।
২. কমপক্ষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৭৫% ক্লাসে হাজির থাকতে হবে। কোন মাসে ৭৫% এর কম হাজিরা থাকলে ঐ মাসে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। পরপর দুই মাসে ৭৫% এর কম হাজিরা হলে তাকে TC দিয়ে দিতে হবে।
৩. ক্লাসে ৯০% হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ৭৫% এর কম হাজিরা থাকলে নির্বাচনী পরীক্ষায় ও বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।
৫. যে সকল শিক্ষার্থী ক্লাসে ঠিকমতো উপস্থিত হয় না, তাদের তালিকা মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন শিক্ষকদের গ্রুপ করে দিতে হবে যাতে করে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর অভিভাবককে জানাতে পারে।
৬. শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত হলে ঐদিন অটোমেটিকালি অভিভাবকের কাছে বার্তা যায়।
৭.নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
৮.ইংরেজিতে ফেল করা সকল শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ইংরেজিতে ন্যূনতম একটি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করার জন্য অনুমতি দিতে হবে।
৯.কলেজ শাখায় ক্লাস সংখ্যা বাড়াতে হবে।(স্কুল এন্ড কলেজ এর ক্ষেত্রে)
১০.স্কুল শাখার শিক্ষক স্কুলে ক্লাস নিবে, আর কলেজ শাখার শিক্ষক কলেজে ক্লাস নেবে।(স্কুল এন্ড কলেজের ক্ষেত্রে)
১১.ক্লাস রুটিনের ত্রুটি বের করে সংশোধন করতে হবে।
১২. একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ইংরেজি ও আইসিটিতে ক্লাসের সময় অন্যান্য বিষয়ের থেকে বাড়াতে হবে।
১৩. কলেজে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাস দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিদিন ইংরেজি ও আইসিটি দুইবার করে ক্লাস হবে।
১৪. ঢালাওভাবে সকল শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
১৫. দুই বা তিন বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপ করার সুযোগ দিলেও তার অধিক বিষয়ে ফেল করার শিক্ষার্থীকে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যাবে না।
১৬. প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিসিপ্লিন রক্ষা করতে হবে।
১৭. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শিক্ষার্থীদের জবাবদিহিতায় আনতে হবে এবং প্রতি ক্লাসে প্রশাসন থেকে কাউন্সিলিং করার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৮. শিক্ষকদের সাথে অভদ্রতা আচরণকারী শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে ছাড়পত্র দিয়ে দিতে হবে।
১৯. প্রতিটি ক্লাসে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
২০. মাঝে মাঝে অভিভাবক সমাবেশ করতে হবে।
২১. বোর্ড পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী অর্থাৎ ক্যাজুয়াল শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
২২. প্রথম একটি/দুটি ক্লাস করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
২৩. শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সময় ক্লাসে না থেকে ওয়াশরুমে থাকে।
২৫. ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করার পূর্বে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে হবে। (যদিও লটারির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে)
২৬. ষষ্ঠ শ্রেণীতে যারা ভর্তি হয় তাদের অধিকাংশই ইংরেজি ও বাংলা রিডিং পড়তে পারে না। তাই পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের সময় বাছাই করে উত্তীর্ণ করতে হবে।
২৭. প্রাইমারি স্কুল থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দুর্বল অবস্থায় মাধ্যমিককে ভর্তি হয়। তাই ভর্তি ফরম দেওয়ার পূর্বে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করে নিতে হবে। দুর্বল প্রকৃতির শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না।
২৮. বিরতির পর অধিকাংশ ক্লাসে ৪-৫ জন ক্লাস করে। বিরতিতে অনেকেই বাড়ি গিয়ে আর স্কুলে ফিরে আসে না। বিরতির পরও হাজিরা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
২৯. সকালে কিছু শিক্ষার্থী শুধু প্রাইভেট পড়ে বাড়ি চলে যায়, তাদেরকে হাজিরার আওতায় আনতে হবে।
৩০. কোন শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস দিলে শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে ক্লাস দিতে হবে। যে শিক্ষক যে বিষয়ের তাকে সেই বিষয়ের ক্লাস দিতে হবে।
৩১. প্রতিটি ক্লাসে প্রায় ৫% শিক্ষার্থী শুধু প্রাইভেট পড়ে, আর অধিকাংশই ঠিকমত ক্লাসও করে না, প্রাইভেটও পড়েনা, ক্লাসও আসে না। তাই মোটের উপর শিক্ষার্থীদের শতভাগ হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।
৩২. কলেজের বেশ কিছু বিষয়ের ক্লাস বিকাল দুইটা বা তিনটার পর থাকে। সে সকল বিষয়ের ক্লাস বেশিরভাগই হয় না। কারণ, শিক্ষার্থীরা দুপুর ১ টা বা ২ টার আগেই বাড়ি চলে যায়। তাই কলেজ শাখার প্রতিটি ক্লাস ঘূর্ণায়মান রুটিনে করতে হবে। যাতে করে সকল বিষয়ের দুই বা তিনটি ক্লাস শিক্ষকরা দুপুর একটার আগে নিতে পারে।
৩৩. কলেজ শাখার অধিকতর সহজ বিষয়গুলিতে ক্লাসের সময়ের পরিমাণ কমিয়ে দুপুর দুইটার মধ্যে সকল ক্লাস শেষ করা। যাতে করে অধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। স্কুল শাখার ক্লাসের সময়ের সাথে সমন্বয় করতে গিয়ে এটা কখনও সম্ভবপর হয়ে ওঠে নি। তাই অধিকাংশ বিষয়ের ক্লাস শিক্ষার্থীরা করতে পারে না। তাই স্কুল শাখা ও কলেজ শাখার ক্লাস রুটিনের সময় ভিন্ন হতে হবে আর প্রত্যেক শাখার শিক্ষক শুধু নিজ শাখায় ক্লাস নিবে। তাহলে ক্লাস রুটিনের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। (স্কুল এন্ড কলেজের ক্ষেত্রে)
৩৪. স্কুল শাখার শিক্ষক স্কুল শাখায় আর কলেজ শাখার শিক্ষক কলেজ শাখায় ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে দুই শাখায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করবে।
৩৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা দিতে হবে।
৩৬. প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার রাজনৈতিক ইস্যু ও গ্রুপিং দূরীভূত করতে হবে।
৩৭. শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সমাজের গুণীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে।
৩৮. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

Post a Comment