AF EDU 24-এফ এডু ২৪(afedu24.blogspot.com)
--:--:--

সর্বশেষ

বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিম বাছাই / নির্বাচন Egg Selection for Hatching.

বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিম বাছাই / নির্বাচন।

Egg Selection for Hatching

সব ডিম থেকেই বাচ্চা ফোটে না। শুধু নিষিক্ত ডিম থেকেই বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব। তাই ফোটানোর জন্য নিষিক্ত ডিম বাছাই করতে হবে। যেসব বৈশিষ্ট্যের ওপর ফোটানোর ডিম বাছাই করতে হয় তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১। ডিমের আকার:

 ডিমের আকারের ওপর বাচ্চার আকার অনেকাংশে নির্ভরশীল। খুব বড়ো বা খুব ছোটো আকারের ডিম বাচ্চা ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত নয়। প্রজাতি ও জাতভেদে ডিম বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। তবে, সবসময় নির্দিষ্ট প্রজাতি ও জাতের মাঝারি আকারের ডিম ফোটানোর জন্য বাছাই করা উত্তম।

২। ডিমের ওজন: 

ডিম্বাকৃতির ডিম ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত। লম্বাটে বা গোলাকার ডিম ফোটানোর জন্য ভালো নয়। বাচ্চা উৎপাদনের জন্য গড়ে ৫০-৬০ গ্রাম ওজনের ডিম বাছাই করা উচিত।

৩। ডিম সংরক্ষণ বয়স: 

গ্রীষ্মকালে ৩-৫ এবং শীতকালে ৭-১০ দিনের বেশি বয়সের ডিম ফোটানোর জন্য সংরক্ষণ করা উচিত নয়। ২২°-৬২° ফা. তাপমাত্রা এবং ৬০%-৭০% আর্দ্রতায় সংরক্ষিত ডিম বাছাই করতে হবে।

৪। ডিমের খোসার পুরুত্ব: 

পাতলা খোসার ডিম বাচ্চা ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত নয়। কারণ, পাতলা খোসার ডিম মুরগির নিচে অথবা ইনকিউবেটরে বসালে খোসা ভেঙ্গে ডিমের ভেতরের অংশ অন্যান্য ডিমের খোসার ওপর ছড়িয়ে পড়বে। এতে করে অন্যান্য ভালো ডিমের বাচ্চা উৎপাদন ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।

৫। খোসার মসৃণতা: 

মূলত সুষম খাদ্যের অভাবে ডিমের খোসার মসৃণতা নষ্ট হয়ে থাকে। যেসব ডিমের খোসা বেশি খসখসে সেগুলো ভালো ফোটে না। কাজেই শক্ত ও মসৃণ খোসাবিশিষ্ট ডিম বসানো ভালো।

৬। নিখুঁত ডিম: 

ডিমের খোসা যাতে ফাটা না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত ফাটা কিংবা ভাঙ্গা খোসাবিশিষ্ট ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে না। ফাটা বা ভাঙা ডিমে আর্দ্রতা ঢুকে ডিমের ভ্রূণ নষ্ট করে দেয়।

৭। ময়লামুক্ত ডিম:

 বাচ্চা ফোটানোর জন্য ময়লামুক্ত ডিম বাছাই করা উচিত। ডিম ময়লাযুক্ত থাকলে তা হালকা গরম পানিতে দ্রুত ধুইয়ে নিতে হবে। ময়লাযুক্ত ডিম পানিতে অধিক সময় ধুইয়ে নির্বাচন করা যাবে না।
৮। ডিমের ভেতরের গুণাবলি: 
ডিমের ভেতরের অংশ আলোর সাহায্যে পরীক্ষা করলে যদি কোনো ডিমের ভেতর রক্তের দাগ অথবা ডিমের সাদা অংশ এবং কুসুম ঘোলাটে দেখা যায় তাহলে সে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে না এবং তা ফোটানোর জন্য নির্বাচন করা যাবে না।

৯। রোগমুক্ত মুরগির ডিম:

 ডিমের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় অনেক রোগ বিস্তার লাভ করে। পুলোরাম, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগ আক্রান্ত মুরগির ডিম ফোটানোর জন্য বাছাই করা উচিত নয়।

১০। ভ্রূণের সজীবতা: 

ডিমের উর্বরতা ঋতু পরিবর্তনের সাথে বদলে যায়। যেমন—বসন্তকালে ডিমের উর্বরতা বেশি ও গ্রীষ্মকালে কম। তাই ঋতু বিচার করে ডিম নির্বাচন করা ভালো।

১১। মুরগির বয়স: 

ফোটানোর জন্য ভালো ডিম পেতে হলে মুরগির বয়সের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। মুরগি ডিম দিতে শুরু করার ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রাপ্ত ডিমের স্ফুটনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। মুরগির বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরবর্তী বছরগুলোতে ডিমের স্ফুটনক্ষমতা কমতে থাকে।

১২। পালন ঘরে মোরগ-মুরগির অনুপাত : 

যেসব খামারে মোরগ ও মুরগির অনুপাত ১: ১০ এবং মোরগের স্বাস্থ্য ভালো ও শক্তিশালী সেসব খামার থেকে ফোটানোর ডিম সংগ্রহ করতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post