নাইলোটিকার চাষ
Cultivation of Nilotica
নাইলোটিকা মাছের পরিচিতি (Introduction to Nilotica)
তেলাপিয়া গোত্রের নাইলোটিকা নামক মাছটি ১৯৭৪ সালে প্রথম থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও সুস্বাদু মাছ। দেখতে অনেকটা তেলাপিয়া মাছের মতো। এ মাছের দেহ চ্যাপ্টা ও পাতলা, শরীরের মাঝখান মোটা ও অনেকটা গোলাকার। মাথা ও লেজের দিকে চাপা। শরীরের বর্ণ ধূসর-নীলাভ থেকে হালকা। পৃষ্ঠ ও লেজের পাখনা হালকা লাল বা গোলাপী। মাছের দেহ বেশ শক্ত গঠনের। যেকোনো পরিবেশে এ মাছ নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে। সারা পৃথিবীর চাষকৃত মাছের মধ্যে নাইলোটিকার অবস্থান দ্বিতীয় এবং এশিয়া মহাদেশে এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। এ মছের আদি বাসস্থান আফ্রিকার মোজাম্বিক দেশে।
প্রজাতি:
আবাসস্থল (Habitats)
হাজা-মজা পুকুর, মৌসুমি পুকুর, বিল, ধানক্ষেত যেখানে বছরে একাধারে কমপক্ষে ৩ মাস ১.০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পানি থাকে সেখানেই নাইলোটিকার চাষ করা যায়। নাইলোটিকা কষ্টসহিষ্ণু বলে স্বল্প বা গভীর জলাশয়ের প্রতিকূল পরিবেশেও চাষ হয়। এমনকি যে সকল জলাশয়ে স্বাভাবিকভাবে রুই, কাতলা বা মৃগেল মাছ চাষ করা যায় না, এমন পানিতে (নোংরা ও স্বল্প অক্সিজেনযুক্ত) এর চাষ করা যায়। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে ছোটো ও অগভীর জলাশয়, ডোবা, পুকুর, নালা ইত্যাদিতে নাইলোটিকার একক চাষ লাভজনক।
নাইলোটিকা মাছের বৈশিষ্ট্য/চাষের সুবিধা (Criteria of Nilotica Fish)
১. নাইলোটিকা মাছ বেশ শক্ত গড়নের হওয়ায় রোগবালাই তেমন হয় না।২. এ মাছ প্রায় সবধরনের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
৩. স্থানীয়ভাবে বদ্ধ পানিতে এ মাছ পোনা দিতে পারে বলে পোনা ক্রয়ের খরচ কম হয়।
৪. এ মাছ খেতে সুস্বাদু, কাঁটা কম, অধিক ফলনশীল এবং বাড়ির আশপাশে মজা পুকুরে এদের চাষ করা হয়।
৫. এ মাছ অত্যন্ত বেশি পোনা দেয় ও বছরে ৩-৪ বার ডিম পাড়ে। একই পুকুরে বছরে দুবার চাষ করা যায়।
৬. নাইলোটিকা ৩ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয় এবং ২-৩ মাস বয়সে বিক্রির উপযোগী হয়। এ সময় এদের (প্রতিটি ২০০-৩০০ গ্রাম ওজনের পর)।
Post a Comment