নিপাহ ভাইরাস: আক্রান্তের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
নিপাহ ভাইরাস (Nipah Virus) একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় প্রতি বছরই এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। সঠিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
নিপাহ ভাইরাস কী?
নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে।
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ
১. কাঁচা খেজুরের রস পান
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাঁচা খেজুরের রস। ফলভুক বাদুড় রাতে খেজুর গাছে বসে রস খায় এবং তাদের লালা বা মূত্রের মাধ্যমে রস দূষিত হয়।
২. বাদুড়ের দ্বারা দূষিত খাবার গ্রহণ
খোলা অবস্থায় রাখা ফল বা খাবারের উপর বাদুড় বসলে সেগুলোও ভাইরাস দ্বারা দূষিত হতে পারে।
৩. আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শ
নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত রোগীর লালা, কাশি, হাঁচি বা শরীরের তরলের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণসমূহ
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
প্রাথমিক লক্ষণ
- হঠাৎ জ্বর
- মাথাব্যথা
- গলা ব্যথা
- বমি বমি ভাব
- শরীর ব্যথা
গুরুতর লক্ষণ
- শ্বাসকষ্ট
- অতিরিক্ত কাশি
- চেতনা লোপ পাওয়া
- খিঁচুনি
- মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)
নিপাহ ভাইরাসের প্রতিকার ও চিকিৎসা
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা ওষুধ নেই। চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক।
চিকিৎসা পদ্ধতি
- রোগীকে আইসোলেশনে রাখা
- অক্সিজেন সাপোর্ট
- জ্বর ও খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ
- আইসিইউ সুবিধা প্রদান
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়
✔ কাঁচা খেজুরের রস পরিহার করুন
কাঁচা অবস্থায় খেজুরের রস পান করবেন না। অবশ্যই ভালোভাবে ফুটিয়ে বা জ্বাল দিয়ে রস পান করতে হবে।
✔ খেজুরের রস সংগ্রহে বাঁশের ঢাকনা ব্যবহার
খেজুর গাছের রস সংগ্রহের সময় বাঁশ বা প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করলে বাদুড়ের প্রবেশ রোধ করা যায়।
✔ অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর কাছাকাছি গেলে মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করুন।
✔ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
- নিয়মিত হাত ধোয়া
- খাবার ঢেকে রাখা
- খোলা ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা
বাংলাদেশ সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতি বছর নিপাহ ভাইরাস মৌসুমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Post a Comment