এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার জন্য উচ্চমাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্রের প্রথম অধ্যায় বাংলাদেশের কৃষি থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর ।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১। কৃষিশিক্ষা: বিজ্ঞানের যে শাখা থেকে ফসল, পশু-পাখি, হাঁস-মুরগি, মাছ, বৃক্ষ ইত্যাদির উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করা যায় তাকে কৃষিশিক্ষা বলে। (ঢা. রা. কু. চ. সি. বরি. বো. ২০১৭)
২। মৎস্য: সাধারণত মৎস্য বা মাছ বলতে শীতল রক্তবিশিষ্ট জলজ মেরুদন্ডী প্রাণীকে বোঝায় যারা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে এবং জোড় বা বিজোড় পাখনার সাহায্যে চলাফেরা করে।
৩। পোল্ট্রি : যেসব প্রজাতির পাখি মানুষের তত্ত্বাবধানে বসতবাড়ি বা গৃহে লালন-পালন করে বংশবিস্তারের মাধ্যমে ডিম ও মাংস উৎপাদন করা হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখে সেগুলোকে পোল্ট্রি বলে।
৪। কৃষি তথ্য: ফসল, পশু-পাখি, হাঁস-মুরগি, মাছ, বৃক্ষ ইত্যাদির উৎপাদন কৌশল ও সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্যই হলো কৃষি তথ্য।। কু. রা. ব. ও চ. বো. ২০১৮]
৫। ফার্মার টু ফার্মার: কৃষি তথ্য বিনিময়ের একটি প্রকল্প যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো দুই প্রান্তের কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরস্পরের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
৬। উঠোন বৈঠক: কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কৃষকের উঠানে যে বৈঠক করা হয় তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
৭। ই-কৃষি: কৃষিসংক্রান্ত তথ্য ও সেবাকে ইলেকট্রনিক্স প্রক্রিয়ায় কৃষকের মাঝে সরবরাহ করাকে বলে ই-কৃষি।
৮। কৃষক মাঠ স্কুল: কৃষক মাঠ স্কুল হলো কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কৃষি বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি কেন্দ্র।
৯। কৃষি কথা: কৃষি কথা হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কৃষিবিষয়ক মাসিক পত্রিকা।
১০। কৃষি ডাইরি: কৃষি ডাইরি হলো কৃষিসংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি ইত্যাদির। ফোন, ফ্যাক্স নম্বর, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ইত্যাদি তথ্য সংবলিত একটি হাত বই।
১১। কৃষি উপকরণ: কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে সকল উপকরণ ব্যবহার করা হয় তাদেরকে কৃষি উপকরণ বলে। যেমন- সার, বীজ কীটনাশক ইত্যাদি।
১২। ইন্টারনেট: বিশ্বব্যাপী অনলাইনের যে মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হয় তাই ইন্টারনেট। (ঢা. কু. ২০২২; ঢা. কু. য. দি. ২০১৯]
১৩। কৃষি তথ্য সার্ভিস: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষিবিষয়ক একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা কৃষিতথ্য ও প্রযুক্তি গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।
১৪। DAE-Directorate of Agriculture Extension.
১৫। AIS-Agriculture Information Service.
১৬। BRRI-Bangladesh Rice Research Institute.
১৭। SRDI-Soil Resource Development Corporation.
১৮। BADC-Bangladesh Agriculture Development Corporation.
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১. ই-কৃষি বলতে কী বোঝ? (ম. বো., রা. বো., দি. বো., সি. বো., ব. বো., চ. বো. ২০২২)
ই-কৃষি বলতে কৃষি উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকে বোঝায়।
ই-কৃষি মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া যেমন: রেডিও, টিভি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, সিডি, ডিভিডি ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে কৃষকদের মাঝে কৃষি সংক্রান্ত সকল তথ্যাবলি পৌঁছে দেওয়া হয়। ই-কৃষি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণনসহ প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক কলাকৌশল জেনে টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়। কৃষিবষিয়ক তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট বর্তমানে www.ais.gov.bd কৃষিতথ্য তথ্য সরবরাহ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে।
২। কৃষি তথ্য সেবায় মোবাইল ফোন কী কাজে লাগে? ব্যাখ্যা করো। [ঢা. বো., রা. বো., কু. বো., চ. বো., সি. বো., ব. বো. ২০১৭]
কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হিসেবে মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সহজতর উপায়। বর্তমানে কৃষি তথ্য ও সার্ভিস মোবাইল ফোন কোম্পানির সাথে সমঝোতা করে এসএমএস ভিত্তিক কৃষি তথ্য সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কৃষকের কাছে তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কল সেন্টারে কৃষি বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সরাসরি সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে মোবাইল ফোন সারাদেশে কৃষি তথ্য সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৩। উদ্যান ফসল চাষ করা লাভজনক কেন? [ঢা. বো., কু. বো. ২২]
যে সকল ফসল বেড়াযুক্ত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় তাদের উদ্যান ফসল বলে। সাধারণত বসতবাড়ির আশেপাশের উর্বর জমিতে স্বল্প পরিসরে এ ফসল চাষ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি গাছের পরিচর্যা আলাদাভাবে করা হয় ও সার্বক্ষণিক যত্নের প্রয়োজন হয়। ফসল পরিপক্বতার সময় এক না হওয়ায় ধাপে ধাপে সংগ্রহ করতে হয়। গাছ হতে ফুল ও ফল দীর্ঘদিন পাওয়া যায়। এ ফসল উৎপাদনে খরচ ও ঝুঁকি কম। তাছাড়া মৌসুমের শুরুতে এবং অমৌসুমে উদ্যান ফসলের বাজারমূল্যও বেশি থাকে। তাই বলা হয়, উদ্যান ফসল চাষ করা লাভজনক।
৪। কৃষিশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কী ব্যাখ্যা করো। [সকল বো. ২০২৩]
বাংলাদেশের জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য কৃষি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কৃষিশিক্ষার গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা আমাদের মৌলিক চাহিদার সকল বিষয়গুলোর যোগান রাখতে পারি। এ শিক্ষা গ্রহণের দ্বারা আত্মকর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করা যায়। দেশের তথা কৃষির উন্নতি করতে হলে কৃষিশিক্ষা গ্রহণ অত্যাবশ্যক। সেই বিবেচনায় বলা যায়- কৃষিশিক্ষা গ্রহণ ও কর্মক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নই এদেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক কৃষি সম্বন্ধে জানতে হলে কৃষিশিক্ষার জ্ঞান অপরিহার্য।
৫। ইন্টারনেট বলতে কী বুঝ?
ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এমন একটি ব্যবস্থা যার সাথে সংযুক্ত হয়ে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে পৃথিবী একপ্রান্ত থেকে নিমিষেই অন্য প্রান্তের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। এর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য থার্মিনালস থেকে নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়। ইন্টারনেট ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং ও গবেষণামূলক কাজের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কৃষিকাজের নানান সমস্যা-সমাধানে পাওয়া সম্ভব।
৬। অভিজ্ঞ কৃষককে স্থানীয় তথ্যভান্ডার বলা হয় কেন? অথবা, অভিজ্ঞ কৃষক গুরুত্বপূর্ণ কেন? [ঢা. কু. বো. ২০২২; ঢা. য. কু. বো. ২০১৭]
অভিজ্ঞ কৃষক একজন স্থানীয় নেতা এবং একজন পরামর্শদাতা। তিনি সুহৃদয়ভাবে স্থানীয় কৃষি সমস্যার সমাধানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও কৃষকদের নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে বোঝাতে পারেন। এছাড়া তিনি পরামর্শক থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। কৃষক যখন সমস্যায় পড়েন তখন স্থানীয় অভিজ্ঞ কৃষকের কাছে গিয়ে অভিজ্ঞ কৃষকের পরামর্শ গ্রহণ করেন। ব্যবস্থাপনা ও কৃষিক্ষেত্রে কৃষিকার্যকে সহযোগি করেন।
৭। উঠোন বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা-কী ব্যাখ্যা করো।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শেখ, কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পান, কৃষকদের কী করতে হবে তা জানান উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জানতে পারেন। উঠোন বৈঠকে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কৃষকের সাথে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা মত বিনিময় করেন। এছাড়াও হঠাৎ কোনো সমস্যা যেমন, ধানক্ষেতে পোকা বা রোগের আক্রমণ হলে তাৎক্ষণিক কৃষক তাঁর মাধ্যমে তা সমাধান করা যায়।
৮। বাংলাদেশের জন্য মাঠ ফসল গুরুত্বপূর্ণ কেন? [ঢা. য. কু. বো. ২০১৮]
যে সকল ফসল বিস্তীর্ণ মাঠে, নিচু ও মাঝারি ধরনের সমতলসহ জমিতে বৈচিত্রহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় তাদেরকে মাঠ ফসল বলে।
যেমন আমাদের প্রধান নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, গম ইত্যাদি মাঠ ফসল হতে পাই। শুধু তাই নয় প্রধান বাণিজ্যিক ফসল, তুলা, রেশম ও তিলসহ আঁশ মাঠ ফসল থেকে আসে। আমাদের প্রধান খাদ্যশস্যের মূল নিয়মিত সরবরাহ বড়, খড়, পশু, গোখাদ্য ইত্যাদি উপকরণ মাঠ ফসল হতে আসে। শিকার উপকরণ যেমন- কাগজ, সেলিল আসে বাঁশ, আখেরা তামাক ও গাছের খড় হতে। মাঠ ফসলের উৎপাদিত দ্রব্য পেঁয়াজ, আলু-সুনারির খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও পাট ও পাটজাতদ্রব্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের জন্য মাঠ ফসল গুরুত্বপূর্ণ।
৯। টমেটো কেন উদ্যান ফসল? ব্যাখ্যা করো। [ঢা. য. সি. বো. ২০১৯]
টমেটো জাতীয় ফসল বাড়ির আশেপাশে বাগানে, উঠোন, জমিতে বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয়। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাঠে টমেটো চাষ করা হচ্ছে। কিন্তু পরিচর্যার বাড়ির আশেপাশে এর চাষ বেশি হয়। সবজি জাতীয় সব ফসল উদ্যান ফসল। টমেটোতে অল্প জায়গায় বেশি ফসল থাকে। এটি শীতের সময়ে চাষ হয়। টমেটো চাষে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। যা উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া টমেটো খেলে স্বাস্থ ভালো হয়। এ সকল কারণেই টমেটো উদ্যান ফসলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Post a Comment