এসএসসি ও এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হয়েছে। ফলাফল খারাপ হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কড়াকড়ি হুঁশিয়ারি ছিল যে,কোন সহানুভূতির নম্বর শিক্ষার্থীকে দেওয়া যাবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষায় মানসম্মত উন্নয়ন অর্জন করতে এরকম পদক্ষেপ নিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সহানুভূতির নাম্বারের মাত্রা বেশি থাকায় পাশের হার ও ভালো রেজাল্টের হার বেশি ছিল। এছাড়াও বেশ কিছু কারণ রয়েছে যার জন্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটি পড়ুন।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সহানুভূতির নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। - মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর।
বোর্ডের এরকম নির্দেশনা থাকার পরও আমরা মানবিক বিবেচনায় পরীক্ষকবৃন্দরা চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের পাশ করানোর। যেসব শিক্ষার্থী কখনোই বই স্পর্শ করেনি, ক্লাস করেনি, ক্লাসে অমনোযোগী, পরীক্ষার আগ পর্যন্তও বই কেনেনি, পরীক্ষার দুই তিন দিন আগে বই কিনলেও ঠিকমত পড়েনি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় প্রস্তুতি ছাড়া শুধু অংশগ্রহণ করেছে, সারা বছর চাকরি রত অবস্থায় ছিল, মাদকাসক্ত ও মোবাইলে আসক্ত ছিল, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দকেও চেনে না, শিক্ষকরাও যেসব শিক্ষার্থীকে চেনে না, প্রস্তুতি ছাড়া শুধু ফরম ফিলাপ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, শুধুমাত্র তারাই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। নিয়মিত ক্লাস করা ও ক্লাসে মনোযোগী থাকা শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়েছে। আবশ্যিক বিষয় ব্যতীত গ্রুপিং ও চতুর্থ বিষয়ে গুরুত্ব কম দেওয়ার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী চতুর্থ বিষয় কখনোই পড়েনা। অথচ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে চতুর্থ বিষয়ের অনেক ভূমিকা রয়েছে। চতুর্থ বিষয় বা ব্যবহারিক বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস করে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করার সাথে সাথে নিজেকে কর্মজীবনে অনেক দক্ষ করা সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী চতুর্থ বিষয় বা ব্যবহারিক বিষয়টাকে অগ্রাহ্য করে, যার কারণে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল ও লেখাপড়া পরবর্তীতে বেকার অবস্থায় জীবন যাপন করতে হয়। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই নয়, ব্যবহারিক জ্ঞানটা অবশ্যই দরকার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও দুঃখজনক বিষয় যে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য ব্যবহারিক বিষয়ের কোন ল্যাব নাই। যার কারনে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক জ্ঞান ছাড়াই সার্টিফিকেট অর্জন করছে। ফলস্বরূপ, শিক্ষাজীবন শেষেও শিক্ষার্থীরা নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারায় উদ্যোক্তা হওয়া ও চাকরি না পাওয়ায় বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় না।
বোর্ড পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল হওয়ার কারণ ও ও ভালো ফলাফল অর্জন করার উপায়।
Md. Abdullah Farazi
0

Post a Comment