AF EDU 24-এফ এডু ২৪(afedu24.blogspot.com)
--:--:--

সর্বশেষ

দেশ যখন তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটে নাকাল, তখন বাইসাইকেল হতে পারে আপনার উত্তম সঙ্গী। জ্বালানি তেলের সংকট রোধে করণীয়।

তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটে মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। ইরান, ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় দিন দিন জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। দেশের এই ক্রান্তি কালীন সময়ে সকল বাইক চালকেরা সময় মত সঠিক পরিমাণে জ্বালানি তেল - পেট্রোল  ও অকটেন না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারছেন না। সকল সরকারি - বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকবৃন্দ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল না পাওয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করছেন। কেউ ইজিবাইকে, কেউ ভ্যানে, কেউ বাইসাইকেলে কেউ হেঁটে নিজ নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছেন। 



বাংলাদেশের যখন তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে আজ ২৯ মার্চ রোববার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ৪০ দিন ছুটি থাকার পর খুলেছে। যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারী  দেশের জ্বালানি সংকটে পরিমাণ মতো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারছেন না। কিছু ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের অতিরিক্ত তেল মজুর করার কারণে এ সমস্যা আরো বেড়েছে। কারো মোটরসাইকেলে তেল ভর্তি আবার কারো মোটরসাইকেলে তেল শূন্য। 


দেশের অধিকাংশ মোটর সাইকেল চালকেরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। জ্বালানি তেল পাওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে মানুষের ব্যয় হচ্ছে মূল্যবান সময়। এছাড়াও ফিলিং স্টেশনে  দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থেকে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।



বাংলাদেশসহ যখন বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সংকটে নাকাল ঠিক সেই মুহূর্তে আজ ২৯ মার্চ রোববার যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে, তখনই নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলাধীন ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক মোঃ আব্দুল্লাহ ফারাজী বাইসাইকেল নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াত শুরু করেছেন। জ্বানালী তেলের সংকট থাকায় তিনি তার বাইসাইকেল ৬২০ টাকায় মেরামত করেছেন, যে টাকা দিয়ে তিনি দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারতেন ইজিবাইক বা ভ্যানে। কিন্তু দেশে  জ্বালানি সংকট কবে নাগাদ দূর হতে পারে সেই দুশ্চিন্তায় তিনি বাইসাইকেল নিয়ে যাতায়াত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সমাজে অনেক অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা বাইসাইকেল চালিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে লজ্জা বোধ করেন। অথচ শিক্ষার্থীরা নামিদামি স্মার্টফোন সাথে করে দামি গাড়িতে চরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। হেঁটে আসাতো দূরের কথা বাইসাইকেল না চালিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক বা ভ্যানে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক ছেলে শিক্ষার্থী যাওয়া আসা করে। বোর্ড পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করার সময় তারা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বেতন তো দেওয়া দূরের কথা ফর্ম ফিলাপের সম্পূর্ণ টাকাটা দিতেও না না অজুহাত দেখায়। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুপারিশ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে ফরম ফিলাপ করতে। 



জ্বালানি তেলের সংকট রোধে/মোকাবেলায় করণীয়:

১. দেশের তীব্র জ্বালানি সংকটের সময়ে সকল বাইকারদের পরিমাণ মতো তেল সংগ্রহ করে বাইক চালানো উচিত। 

২. অতিরিক্ত তেল মজুদ করে অন্যান্য বাইকারদের সমস্যা সৃষ্টি না করলেই জ্বালানি সংকট কিছুটা কমবে।

৩. ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে বেশি বেশি গণপরিবহন ব্যবহার করা।

৪.  ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী অতিরিক্ত তেল মজুদ যাতে না করতে পারে তার জন্য সরকার কর্তৃক নিয়মিত মনিটরিং করা।

৫. জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি তেল ক্রয় করা সীমিত করা।

৬. ব্যক্তিগতভাবে কেউ যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল ক্রয় না করতে পারে সেদিকে  প্রশাসন কর্তৃক মনিটরিং করা।

৭. জ্বালানি তেলের সংকটকালীন  আমাদের সকলেরই উচিত প্রয়োজন হলে কাছাকাছি দূরত্বে হেঁটে অথবা বাই সাইকেলে চলাচল করা। এতে করে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় হবে সাথে সাথে শারীরিক ব্যায়ামও হবে।




Post a Comment

Previous Post Next Post